আমাদের মহাবিশ্ব কত বড়

আমাদের মহাবিশ্ব কত বড় (full & brilliant details)

আমাদের মহাবিশ্বের প্রকৃত আকার বুঝার জন্য আমাদের মস্তিষ্ক স্ট্রাগল করে।

কারণ মহাবিশ্বে তুলনায় আমাদের বিশ্ব এমনিতেই ছোট। আর এত ছোট যে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

 তবুও আমরা বলি যে, আমাদের পৃথিবী কত বড়

একটি বিশাল বড় জায়়গা কিন্তু আমাদের এই মহাবিশ্ব ঠিক কতটা বড় এবং কিভাবে তা জানবো আমরা?

আমাদের মহাবিশ্ব কত বড় – আয়তন কি আছে?

যতক্ষণ আপনি আর্টিকেলটি পড়লেন এতক্ষণে সূর্য থেকে 

নির্গত একটি ফোটন কণা ইতিমধ্যেই 10 মিলিয়ন কিলোমিটার অর্থাৎ এক কোটি কিলোমিটার পথ পরিভ্রমণ করে ফেলেছে যা পৃথিবীর চারিদিকে 250 বার পরিভ্রমণ করার সমান।

সূর্য ছাড়া আমাদের সবচেয়ে নিকটতম নক্ষত্র 

প্রক্সিমা সেন্টারাই থেকে নির্গত আলোর চার বছর সময় লাগে পৃথিবীতে এসে পৌঁছাতে সুতরাং আমরা বলতে পারি যে নক্ষত্রটি  চার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।

এখন যদি আপনি প্রক্সিমা সেন্টরি দিকে তাকান তাহলে আপনি নক্ষত্রটিকে 

তার বর্তমান অবস্থায় দেখতে পাবেন না।

আমাদের মহাবিশ্ব

আপনি নক্ষত্রটি চার বছর আগে যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় দেখবেন আমরা মহাবিশ্বের কোনো কিছুকেই তার বর্তমান অবস্থায় দেখি না বরং তারা অতীতে যে অবস্থায় 

ছিল সেই অবস্থায় দেখি এবং আমরা তাদের কতটা অতীতে দেখি সেটা  নির্ভর করে পৃথিবী থেকে তার দূরত্বের উপর।

এর কারণ হলো আমাদের সৌরজগতের বাইরে সবকিছুই এতটাই দূরে যে, পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে।

আমরা সবাই জানি যে আলোর গতিবেগ প্রতি 

সেকেন্ডে 3 লক্ষ কিলোমিটার এবং এই গতিবেগে ভ্রমণ করে আমাদের সবচেয়ে নিকটতম নক্ষত্র থেকে নির্গত আলোর চার বছর সময় লেগে যায় পৃথিবীতে এসে পৌঁছাতে

সুতরাং ভেবে দেখুন যে অন্যান্য নক্ষত্র এবং ছায়াপথগুলো 

যাদের থেকে নির্গত আলোর পৃথিবীতে এসে পৌঁছাতে লক্ষ লক্ষ বছর লেগে যায় ঠিক কতটা দূরে অবস্থিত সুতরাং এই জন্যেই আমরা তাদের অতীতের অবস্থানে দেখি বর্তমানে না।

উদাহরণ স্বরূপ আমাদের সবচেয়ে নিকটতম 

ছায়াপথ অর্থাৎ অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি এতটাই বড় যে এই ছায়াপথ কে খালি চোখেই দেখা যায

andromeda galaxy
andromeda galaxy

আমি ছায়াপথ থেকে খালি চোখে দেখার কথা বলতে আপনি হয়তো ভাবছেন যে পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব সত্যিই অনেকটা কম।

আসলে আপনি যা দেখছেন তা হলো আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের মতোই কোটি কোটি নক্ষত্রের একটি শহর কে একত্রে একটি আলোর উৎস হিসাবে এবং এই নক্ষত্রটি 2.5 মিলিয়ন অর্থাৎ 25 লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত যার অর্থ হলো আপনি অ্যানড্রোমিডা ছায়াপথ কে 25 লক্ষ  বছর আগে যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় দেখছেন।

পুরোটাই অ্যানড্রোমিডা ও আকাশগঙ্গা ছায়াপথের মতোই অসংখ্য ছায়াপথ দ্বারা পরিপূর্ণ. তো এখন প্রশ্ন হলো।

আমরা কিভাবে নক্ষত্রের বা ছায়াপথের  দূরত্ব নির্ণয় করবো? 

রাতের আকাশ এই সমস্ত দৃশ্যমান নক্ষত্র সহ আরও কোটি কোটি নক্ষত্র আকাশগঙ্গা এবং ছায়া পথে বাস করে। এবং তাদের মধ্যকার দূরত্ব এত কম যে, তাদের উজ্জ্বলতা খৃবউ কম হয়

সুতরাং তারা খালি চোখে দৃশ্যমান নয় অর্থাৎ কোন নক্ষত্র যত দূরে অবস্থিত তাকে ততই অনুজ্জ্বল মনে হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই জিনিস কেই দূরে অবস্থিত নক্ষত্রের দূরত্ব নির্ণয় করার জন্য সূত্র হিসাবে ব্যাহার করেন। একে, এই ছায়াপথ বা নক্ষত্রের দূরত্ব নির্ণয় করার সঋত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু এই সূত্র টি একটা প্রশ্ন তুলে ধরে এবং তা হলো কিভাবে আমরা জানবো যে একটি অনুচর নক্ষত্র সত্যিই কি খুব দূরে অবস্থিত?
নাকি নক্ষত্রটি কম হওয়ার কারণে তাকে অনুচর দেখাচ্ছে.

এই সমস্যাটির সমাধান হয়েছিল 1960 সালে যখন
হেনরি ডেভিড কিছু নির্দিষ্ট নক্ষত্রের হোয়াট ইজ বলার উপায় আবিষ্কার করেছিলেন যে নক্ষত্র গুলো
তাদের সাথে সংযুক্ত পালস রেট পরিবর্তন করে। এর দ্বারা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের সমস্ত প্রান্তে অবস্থিত নক্ষত্রের দূরত্ব পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছিল

কিন্তু ছায়াপথের দূরত্ব নির্ণয় খুবই কষ্টকর আমাদের মহাবিশ্বে কোটি কোটি ছায়াপথে অবস্থান যাদের মধ্যে সবচেয়ে দূরবর্তী ছায়াপথগুলো খুবই দূরে রয়েছে।

এত দূরে অবস্থিত যে কোটি কোটি বছর পূর্বে এই ছায়াপথ গুলো ধরে তাদের যে আলো নির্গত করে সেগুলো আমরা বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি।

যেহেতু আমাদের মহাবিশ্ব 13.8 বিলিয়ান বা প্রায় 14 কোটি বছর বয়সে সুতরাং সবচেয়ে দূরবর্তী ছায়াপথগুলো প্রায় 14 কোটি বছর ধরে ভ্রমণ করে আজ আমাদের পৃথিবীতে এসে পৌঁছাচ্ছে এটা একটা অসাধারণ ঘটনা কারণ

আলোর একটি ফোটন কণা কোন একটি দূরবর্তী ছায়াপথ থেকে তার যাত্রা শুরু করার পর যাত্রাতে থাকাকালীন পৃথিবীতে জীবনের সৃষ্টি হয় ডাইনোসরের আবির্ভাব ঘটে মানুষের আবির্ভাব ঘটে আবির্ভাব ঘটে শিল্প বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির।

তৈরি হয় হাবল স্পেস টেলিস্কোপের এবং সেই টেলিস্কোপে ফোটন কণা এটি তার 13.8 বিলিয়ন বছরের যাত্রা সম্পূর্ণ করে ধরা পড়ে ছায়াপথগুলো দূরবর্তী হওয়া সত্বেও জ্ঞানীরা সুপার্ণুভা নামক এক অবিশ্বাস্য উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিস্ফোরণের সাহায্যে ছায়াপথগুলোর দূরত্ব পরিমাপ করতে সক্ষম। এবং তৈরী হয় হাবল’স ল’

আমাদের মহাবিশ্ব

কিছু ধরনের বিস্ফোরিত নক্ষত্রের একটি নির্দিষ্ট উজ্জ্বলতার হোয়াটএজ আছে যার সাহায্যে ঐ সব নক্ষত্রের দূরত্ব নির্ণয় করা যায়।

এসব নক্ষত্রের বিস্ফোরণের উজ্জ্বলতার পরিমাপ করে এবং এই ভাবেই সেই ছায়াপথের দূরত্ব নির্ণয় করা সম্ভব যে ছায়াপথে সে ই বিস্ফোরিত নক্ষত্রটি
অবস্থিত।

আমাদের মহাবিশ্বের সবচেয়ে দূরবর্তী প্রান্ত থেকে আগত আলোর সময় লেগেছে 13.8 বিলিয়ন বছর একে আমরা অবসেরভের ইউনিভার্স বা পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব বলি যতক্ষণ ধরে এই আলোর ফোটন কণা গুলি মহাবিশ্বে ভ্রমণ করে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে ততক্ষণ ধরে আমাদের মহাবিশ্ব সম্প্রচারিত হয়েছে আমরা সেই বিন্দু থেকে সরে গিয়েছি যেখানে আমরা এক সময় অবস্থান করেছি।

যদিও আলোটি কেবলমাত্র 13.8 বিলিয়ান বা প্রায় 14 কোটি বছর ধরেই ভ্রমণ করেছে তবে যে দ্রুরুত্ব থেকে আলোটি আমাদের কাছে এসেছে তা বর্তমানে

প্রচারিত হয়েছে 46 বিলিয়ন আলোকবর্ষ হয়েছে অর্থাৎ আমাদের বর্তমান অবসেরভাবল ইউনিভার্স পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব হলো যে 46 বিলিয়ন আলোকবর্ষ বা ৪ হাজার 600 কোটি আলোকবর্ষ।

সুতরাং কতটা বড় আমাদের মহাবিশ্ব
সোজা উত্তর হল কেউই জানেনা মহাবিশ্ব কতটা বড় মহাবিশ্ব কি প্রকৃতপক্ষে অসীম নাকি এর কোন প্রান্ত

আছে এর কোন প্রকৃত উত্তর নেই। তবে একটা কথা বলা যেতে পারে যে এই মহাবিশ্ব সত্যিই খুব বড় এবং এতটাই বড়।

অতএব, আমরা এই কথা বলতে পারি যে, এই ইউনর্ভাস অনেক বড়। আর এটা এতটাই বড় যে এমনকি আলো প্রতি সেকেন্ডে 3 লক্ষ কিলোমিটার গতিবেগে 14 কোটি বছর ধরে ভ্রমণ করার পরও মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌঁছতে পারেনি

এবং এই মহাবিশ্ব সর্বদাই প্রসারিত হয়ে বেড়ে চলেছে সৃষ্টির পর থেকে এবং আমাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব 13.8 বিলিয়ন আলোকবর্ষ থেকে বেরিয়ে গিয়ে হয়েছে 46 বিলিয়ন আলোকবর্ষ।

ইতিহাস জুড়ে বিভিন্ন প্রজন্মের গবেষক ও অনুসন্ধানকারীরা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে মহাবিশ্বের গভীরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছেন

মহাবিশ্বের আয়তন কিংবা এর দূরত্ব কত বড় এই প্রশ্নের উওর খুজে পেতে বিভিন্ন নতুন পদ্ধতি ও প্রযুক্তির সাথে। যা আমাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন তথ্য আবিষ্কার এর সন্ধান দিয়েছে।

হয়তো এভাবেই কোন একদিন আমরা এমন কোন পদ্ধতি বা প্রযুক্তির সৃষ্টি করতে পারব যে আমাদের মহাবিশ্বের বিভিন্ন রহস্য নির্ধারণ করতে ও এর প্রকৃত আকার বুঝতে সাহায্য করবে।

আজকের মতো এই পর্যন্তই।

স্মার্ট কার্ড স্ট্যাটাস চেক – কিভাবে স্মার্ট আইডি কার্ড চেক করবো

Leave a Comment

Your email address will not be published.